শনিবার, জানুয়ারি ১৮, ২০২০




এক টেস্ট ম্যাচ খেলে মুশফিকরা পাবেন ছয় লাখ টাকা, কোহলিরা পান কত?

মো. নাছির উদ্দীন: সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কার্যনির্বাহীর এক সভায় ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। টেস্ট সংস্করণের প্রতি ম্যাচে একজন ক্রিকেটার এখন থেকে পাবেন ছয় লাখ টাকা করে। যা আগে ছিল চার লাখ টাকা করে। শুধু টেস্টেই নয়, ম্যাচ ফি বেড়েছে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সংস্করণেও।

ওয়ানডেতে এর আগে একজন ক্রিকেটার ম্যাচ ফি পেতেন দুই লাখ টাকা করে। এখন তা বাড়িয়ে করা হয়েছে তিন লাখ টাকা। সংক্ষিপ্ত সংস্করণের টি- টোয়েন্টিতে ২০১৭ সাল থেকে ক্রিকেটাররা পেয়ে আসছেন এক লাখ ২৫ হাজার টাকা করে। এখন থেকে প্রতি ম্যাচের জন্য ক্রিকেটাররা পাবেন দুই লাখ টাকা করে।

২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হোম সিরিজে ভারতের টেস্ট অধিনায়ক বিরাট কোহলি তিন ম্যাচ খেলে পেয়েছেন ৬৫ লাখ ৬ হাজার ৮০৮ রুপি। অর্থাৎ ম্যাচ প্রতি সাড়ে ২১ লাখ রুপির ওপরে পেয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান। চেতেশ্বর পুজারা পেয়েছেন ম্যাচ প্রতি ২০ লাখ রুপির কিছুটা বেশি।

তবে এই ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের কোনো গ্রেড নেই। চুক্তিবদ্ধ সকল ক্রিকেটার একই পরিমাণ ম্যাচ ফি পান। অ্যারন ফিঞ্চরা একটি টেস্ট ম্যাচ খেলে পান ২০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার। আমাদের টাকায় যা দাঁড়ায় ১১ লাখের চেয়ে কিছু বেশি। একই ভাবে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা একটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে পান ১০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা করে। টি-টোয়েন্টি খেলে পান ৮ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা করে।

এদিক থেকে অনেকটা পিছিয়ে আছে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। একটি টেস্ট ম্যাচ খেলে পাক ক্রিকেটাররা পান চার লাখ রুপি করে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে পান যথাক্রমে তিন লাখ রুপি এবং এক লাখ ২৫ হাজার রুপি করে।

বেতন-ভাতা ও সুযোগ- সুবিধাদির দাবি নিয়ে ক্রিকেটাররা নানা সময়ে আন্দোলন করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের আন্দোলন। ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের সাথে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার একটি বিরোধ দেখা যায়। সেখানে ক্রিকেটাররা বেতনের পাশাপাশি রাজস্ব আয়ের ভাগ চান। পরবর্তীতে আন্দোলনরত ক্রিকেটার ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) মধ্যে একটি সমঝোতা স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে দুই পক্ষ একমত হয়।
তারপর থেকে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা বোর্ডের আয়ের ভাগও পান।

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের সেই আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল নারী ক্রিকেটারদেরকেও পুরুষ ক্রিকেটারদের সমান সুযোগ- সুবিধা দেয়া। পরবর্তীতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) তাদের বোর্ড কমিটিতে অন্তত পাঁচজন নারীর অন্তর্ভূক্তি ও নারী ক্রিকেটারদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করে।

২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও একই ধরণের একটি ধর্মঘটের ডাক দেয়। ধর্মঘটে যাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের মতো বোর্ডের রাজস্বের ভাগ চায়। সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান পেশাদার ক্রিকেটারদের মুখপাত্র হিসেবে এক সংবাদ সম্মেলনে ১৩ দফা দাবি উপস্থাপন করেন।

এই দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল প্রফেশনাল ক্রিকেটারদের অ্যাসোসিয়েশন গঠন। নতুন দাবীর আরেকটি ছিলো নারী ক্রিকেটাররা যে বেতন ভাতা পান তা যেন পুরুষ ক্রিকেটারদের সমান হয়।

পরবর্তীতে বিসিবি এবং ক্রিকেটারদের মধ্যে বৈঠকের পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয় ক্রিকেটাররা। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এবার জাতীয় দলে খেলা ক্রিকেটারদেরও ম্যাচ ফি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category