বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২০




ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করছি…..মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রী

নূরে আলম নূরীঃ সরকারের মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের ৮০ শতাংশের বেশি বাংলাদেশের নদ-নদী মোহনা ও সাগর থেকে আহরিত হয়। অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক সুন্দর ও বড় আকারের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইলিশ একটি বড় খাত তাই এখাতের গুরুত্ব দিয়ে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করছি।

১৪ অক্টোবর বুধবার দুপুরে মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর মোহনপুর লঞ্চঘাট এলাকায় ইলিশ বিচরন এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি তাঁর বক্তব্যে একথাগুলো বলেছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সময় উপস্থিত ছিলেন,মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শামস আফরোজ, মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ,নৌ পুলিশ ডিআইজি আতিকুল ইসলাম পিপিএম, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান, নৌ পুলিশ সুপার খন্দকার ফরিদুল ইসলাম , জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল হক,
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ কুদ্দুস, উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্নেহাশীষ দাশ, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আহসান হাবীব, সহকারী কমিশনার(ভূমি)আফরোজা হাবীব শাপলা,ওসি নাসির উদ্দিন মৃধা, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মসোয়ারা বেগমসহ মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, জেলেসহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার লোকজন।

এ সময় তিনি আরো বলেন, ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন মা ইলিশ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছি। আমরা সম্মিলিতভাবে ইলিশের মা বা জাটকা ধরার সম্ভাবনা রয়েছে এমন এলাকা চিহ্নিত করেছি।’

মন্ত্রী বলেন,একটা ইলিশ দের লক্ষ থেকে সাড়ে তিন লক্ষ পর্যন্ত ডিম দেয় কাজেই কোন ক্রমেই এই ইলিশকে ধরতে দেয়া যাবে না। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এই ইলিশ আমরা বিদেশেও রপ্তানী করবো এবং বৈদেশীক মুদ্রা অর্জন করবো। জেলে ভাইসহ জনগনকে আমরা সচেতন করছি সরকার নির্ধারিত নিশষেধাজ্ঞার সময়ে যেনো ইলিশ শিকার না করে। কেননা, এই ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের।

জেলেদের সহায়তার বিষয় তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রায় পাঁচ লাখ লোক ইলিশ আহরণে সরাসরি নিয়োজিত এবং ২০-২৫ লাখ লোক ইলিশ পরিবহন, বিক্রি, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, রফতানি ইত্যাদি কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ এবং জাটকা ধরার নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের জীবনধারণের জন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে জাটকা ও ইলিশ সমৃদ্ধ এলাকায়। চলতি বছর ইতোমধ্যে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ সময়ের আগেই দেশের ইলিশ সমৃদ্ধ ৩৬ জেলার ১৫৩ উপজেলায় মোট পাঁচ লাখ ২৮ হাজার ৩৪২টি জেলে পরিবারকে ২০ কেজি হারে মোট ১০ হাজার ৫৬৭ মেট্রিক টন খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

 

উল্লেখ্য, মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার এবং লক্ষীপুরের চরআলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার মা ইলিশের বিচরন কেন্দ্র। এ অঞ্চলে মেঘনার এই ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সকল ধরনের মাছ ধরার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category