সোমবার, নভেম্বর ১১, ২০১৯




ইনসাফ সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণই মহানবীর (দ.) আদর্শ……. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মহানবীর (দ.) দুনিয়ায় শুভাগমন দিবস ১২ রবিউল আউয়াল রাজধানী ঢাকার মিরপুরে আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়ার উদ্যোগে ও মাইজভান্ডার দরবার শরীফের ইমাম হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (মা.জি.আ.) এর নেতৃতে লাখো লাখো নবীপ্রেমী জনতার উচ্ছাস মুখর অংশগ্রহণে জশনে জুলুস বের করা হয়েছে।

কালেমা খচিত বিভিন্ন ফেষ্টুন, ব্যানার, পে­কার্ড, জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা হাতে ধর্মীয় মানবশোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা ­স্লোগানে স্লোগানে রাজধানীর রাজপথ প্রকম্পিত করে তুলে। ১০ নভেম্বর-২০১৯, রবিবার, সকালে মিরপুর-১ দার“স সালাম রোড থেকে জশ্নে জুলুস শুর“ করে বিভিন্ন গুর“ত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক শান্তির মহাসমাবেশ। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী বলেন, মানবজাতিসহ সমগ্র সৃষ্টি জগতের মাঝে আজ অফুরান আনন্দের হিলে­াল বয়ে যাচ্ছে। কেননা, ১২ রবিউল আউয়ালের এই দিনে পুরো জগৎকে আলোকিত করে তশরিফ এনেছেন মানবজাতির মুক্তির দিশারী হযরত মুহাম্মদ (দ.)। তিনি যখন দুনিয়ায় আগমন করেন তখন ছিল তমাসাচ্ছন্ন তথা আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগ। আরবের গোত্রে গোত্রে যুদ্ধ বিগ্রহ লেগেই থাকতো। ঐ সময়ে কন্যা সন্তানকে অভিশাপ মনে করে জীবন্ত কবর দেয়া  হতো। নারী জাতির কোন মর্যাদাই ছিল না। নারীরা ছিল ভোগ-বিলাসিতার পণ্য। মহানবীর (দ.) এসবের অবসান ঘটিয়ে নারী জাতিকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্র ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় তিনি মদিনার সনদ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেন। শান্তি সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণই ছিল মহানবীর (দ.) অনুপম আদর্শ। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ এবং যথাযথ স্মরণের মাধ্যমে আমরা জাগতিক জীবনে শান্তি এবং পরকালীন অন্ত জীবনেও মুক্তির দিশা পেতে পারি। সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী আরো বলেন, বিশ্বজুড়ে আজ মানবতার আর্তনাদ ও গভীর হাহাকার শোনা যায়। নিপীড়ন, বঞ্চনা ও দলনে বিশ্বের লাখো লাখো জনগোষ্ঠীর জীবনে দুর্দশা ও মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। ইসলামসহ প্রতিটি ধর্মই শান্তির কথা বলে। শান্তি, সম্প্রীতি ও সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থানই এই মুহূর্তে বিশ্ববাসীর আকাক্সখা। তাই, সাম্প্রদায়িক সস্প্রীতি অক্ষুন্ন রাখা এবং সব ধর্মের মানুষ মিলে সহাবস্থানের হাজার বছরের ঐতিহ্য আমাদের ধরে রাখতে হবে। তিনি ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইয়েমেন, কাশ্মীর ও মিয়ানমারের নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বে শান্তি জননিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে বিশ্ব নেতৃত্বের প্রতি আহŸান জানান। দুর্নীতি, মাদক, জুয়া, পর্নোগ্রাফি দেশকে রসাতলে নিয়ে যাচ্ছে উলে­খ করে তিনি বলেন, এসব সামাজিক অনাচার র“খতে রাষ্ট্রকেই সর্বাগ্রে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি। তিনি বলেন, দেশকেজঙ্গিবাদের মাধ্যমে সংকটের মধ্যে ফেলার প্রচেষ্টা ছিলো। কিন্তু হক্কানী আলেমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে জঙ্গিবাদের বির“দ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। আলেমরা জঙ্গিবাদের বির“দ্ধে জনমত তৈরি করেছেন। আমি শুকরিয়া  আদায় করছি ঘূীর্ণঝড় থেকে আমরা রক্ষ পেয়েছি। আমি এই শান্তি সমাবেশে আসতে পেরে আনন্দিত।

বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহজাদা সৈয়দ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন, শাহজাদা সৈয়দ হাসনাইন-এ-মইনুদ্দীন, পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সূফীজের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. আহমদ তিজানী বিন ওমর, আন্জুমান সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইকবাল রিছালপুরী। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আরো বলেন, মহানবীর (দ.) শুভাগমনের এই দিনে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সা¤প্রদায়িকতার বির“দ্ধে আমাদেরকে শপথ নিতে হবে। সা¤প্রদায়িক অপশক্তিকে যেকোনো মূল্যে আমাদের প্রতিহত করতে হবে। না হয় দেশ ও জাতি কঠিন প্রশ্নের সম্মুখিন ও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তিনি ধর্মীয় সহিংসতায় জড়িতদের ব্যাপারে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। পরিশেষে মিলাদ কিয়াম পরিবেশন শেষে সকল প্রকার প্রকৃতিক দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ ও বিশ্ব মানবতার কল্যাণ শান্তি সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (মা.জি.আ.)।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category