সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০




আজ জীবনানন্দের দাসের ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী

মো. নাছির উদ্দীন : বিংশ শতাব্দীর অন্যতম আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক জীবনানন্দ দাসের ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী।১৮৯৯ সালের আজকের এই দিনে বাংলাদেশের বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন জীবনানন্দ দাস। তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম। জীবনানন্দ দাসের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী। মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন। ১৯৯৯ সালে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হয় ততদিনে তিনি পরিণত হন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে।

গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দ দাসের কাব্যে হয়ে উঠে চিত্ররূপময়। তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন। বুদ্ধদেব বসু তাকে নির্জনতম কবি বলে আখ্যায়িত করেন। অন্নদাশঙ্কর রায় তাকে ‘শুদ্ধতম কবি’ অভিধায় আখ্যায়িত করেন। সমালোচকদের অনেকে তাকে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি বলে মনে করেন।

জীবনানন্দ দাসের বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থ ১৯৫৩ সালে নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত হয়। ১৯৫৫ সালে শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থটি ভারত সরকারের সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার লাভ করে। জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর মাঝে রয়েছে রূপসী বাংলা, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, বেলা অবেলা কালবেলা, শ্রেষ্ঠ কবিতা ইত্যাদি।

জীবনানন্দ দাস প্রধানত কবি হলেও বেশ কিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা ও প্রকাশ করেছেন। তবে ১৯৫৪ সালে ২২ অক্টোবর তার মৃত্যুর পূর্বে তিনি ২১টি উপন্যাস এবং ১২৬টি ছোটগল্প রচনা করেছিলেন যার একটিও তার জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়নি।

১৯৫২ সালে নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলন পরিবর্ধিত সিগনেট সংস্করণে বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থটি বাংলা ১৩৫৯-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ বিবেচনায় পুরস্কৃত হয়। কবির মৃত্যুর পর ১৯৫৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৫৪) সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার লাভ করে। বনলতা শুধু মানব মনেই নয় ,সাহিত্যকেও সমৃদ্ধ করেছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category