বুধবার, এপ্রিল ৮, ২০২০




আজ জাতিসংঘের প্রয়াত মহাসচিব ও নোবেল বিজয়ী কফি আনান’র জন্মদিন 

মো. নাছির উদ্দীন : কফি আততা আনান। তিনি ছিলেন ঘানার একজন কূটনীতিবিদ এবং জাতিসংঘের সপ্তম মহাসচিব। খ্রিস্টান ধর্মালম্বী হিসেবে প্রোটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায় জনগোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ সালে কফি আনান এবং জাতিসংঘ যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। তিনি কফি আনান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া নেলসন ম্যান্ডেলা প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সংগঠন দা এল্ডারস-এর চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
আজ কফি আনানের ৮৩তম জন্মদিন। ১৯৩৮ সালের ৮ এপ্রিল গোল্ড কোস্টের (বর্তমান ঘানা) কোমাসি শহরে কোফানড্রোস বিভাগে কফি আনান জন্মগ্রহণ করেন। তার যমজ বোন ইফুয়া আততার নামের শেষাংশ আততা তার নামেও রয়েছে, আকান ভাষায় যার অর্থ ‘যমজ। তিনি এবং তার বোন সেদেশের আশান্তি ও ফানতে নামক অভিজাত দুটি গোষ্ঠীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাদের দাদা ও চাচারা ছিলেন উপজাতীয় গোষ্ঠীপ্রধান।
ঘানার কোমাসি শহরে জন্মগ্রহণকারী কফি আনান ম্যাকালেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অর্থনীতি’, গ্র্যাজুয়েট ইউনিভার্সিটি জেনেভায় ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক’ এবং এমআইটিতে ‘ব্যবস্থাপনা’ নিয়ে অধ্যায়ন করেন। ১৯৬২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থার জেনেভা কার্যালয়ে কাজ করার মাধ্যমে তিনি জাতিসংঘে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি জাতিসংঘ সচিবালয়ের আরো কিছু পদে কাজ করেন। ১৯৯২ সালের মার্চ থেকে ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত শান্তিরক্ষা বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। ১৯৯৬ সালে ১৩ ডিসেম্বর নিরাপত্তা পরিষদ তাকে মহাসচিব নিযুক্ত হন, পরে সাধারণ পরিষদেও তা পাশ হয়। কফি আনানই প্রথম ব্যক্তি যিনি জাতিসংঘের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে মহাসচিব মনোনীত হন। ২০০১ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব পদে টানা দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন, এবং ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারি বান কি মুনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে, কফি আনান আমলাতন্ত্র সংস্কার করেন, এইচআইভি প্রতিরোধে কাজ করেন এবং জাতিসংঘ বৈশ্বিক চুক্তি সম্পাদন করেন। নিরাপত্তা পরিষদ সম্প্রসারণ না করায় তিনি সমালোচিত হন এবং জাতিসংঘের তেলের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচী নিয়ে তদন্তের পর তার পদত্যাগের দাবিও ওঠে। জাতিসংঘে কর্মজীবন সমাপ্তির পর আন্তর্জাতিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যে ২০০৭ সালে তিনি আনান কমিশন গঠন করেন। ২০১২ সালে তিনি চলমান সিরিয়া সংকট সমাধানে জাতিসংঘ ও আরব লীগের যৌথ বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু সংকট সমাধানে জাতিসংঘের কাজে কোনো অগ্রগতি না দেখে তিনি অব্যাহতি নেন।
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে শরণার্থী সংকট কমিশনের প্রধান নিযুক্ত করা হয় কফি আনানকে। যা ‘আনান কমিশন’ নামে পরিচিত। ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট  সুইজারল্যান্ডে কফি আনান মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন কফি আনান ছিলেন শান্তির যোদ্ধা এবং কল্যাণের পথপ্রদর্শক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category