সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২০




আজ উপমহাদেশের কিংবদন্তি মহানায়িকা সূচিত্রা সেনের জন্মদিন 

মো. নাছির উদ্দীন : শুভ জন্মদিন সূচিত্রা সেন। আজ উপমহাদেশের কিংবদন্তি মহানায়িকা সূচিত্রা সেনের ৯০তম জন্মদিন। ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল বাংলাদেশের বর্তমান পাবনা জেলার সদরে সুচিত্রা সেন জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন এক স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মা ইন্দিরা দেবী ছিলেন গৃহবধূ। তিনি ছিলেন পরিবারের পঞ্চম ও তৃতীয় কন্যা সন্তান। সূচিত্রা সেন পাবনা শহরেই পড়াশোনা করেন। তিনি ছিলেন কবি রজনীকান্ত সেনের নাতনি। ১৯৪৭ সালে বিশিষ্ট শিল্পপতি আদিনাথ সেনের পুত্র দিবানাথ সেনের সঙ্গে সুচিত্রা সেনের বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র কন্যা মুনমুন সেনও একজন খ্যাতনামা অভিনেত্রী।
সূচিত্রা সেন মূলত বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেন। বাংলা চলচ্চিত্রে উত্তম কুমারের বিপরীতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
১৯৬৩ সালে ‘সাত পাকে বাঁধা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে সুচিত্রা সেন “সিলভার প্রাইজ ফর বেস্ট অ্যাকট্রেস” জয় করেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি কোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হন। ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মান প্রদান করে। জানা যায়, ২০০৫ সালে সূচিত্রা সেনকে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল কিন্তু তিনি জনসমক্ষে আসতে অসম্মতি জানিয়ে এই পুরস্কার গ্রহণ করেননি। ২০১২ সালে তাকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সর্বোচ্চ সম্মাননা বঙ্গবিভূষণ প্রদান করা হয়।
১৯৫২ সালে ‘শেষ কোথায়’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রুপালি পর্দায় অভিষেক হয় সুচিত্রা সেনের। উত্তম কুমারের বিপরীতে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিতে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। ছবিটি বক্স-অফিসে ব্যাপক  সফলতা লাভ করে। উত্তম-সুচিত্রা জুটি আজও স্মরণীয় হয়ে আছে। বাংলা ছবির এই অবিসংবাদিত জুটি পরবর্তী ২০ বছরে ছিলেন আইকন স্বরূপ।
১৯৫৫ সালে প্রথম হিন্দি চলচ্চিত্রে (দেবদাস) অভিনয় করেই সূচিত্রা সেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন। উত্তম কুমারের সাথে বাংলা ছবিতে রোমান্টিকতা সৃষ্টি করার জন্য তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বিখ্যাত অভিনেত্রী হিসেবে আজও সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে বিখ্যাত হয়ে আছেন। ১৯৬০ ও ১৯৭০ দশকে তার অভিনীত অসংখ্য জনপ্রিয় ছবি মুক্তি পেয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পরও তিনি অভিনয় চালিয়ে গেছেন। এই সময় হিন্দি চলচ্চিত্র ‘আন্ধি’-তে একজন নেত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেন। বলা হয়ে থাকে যে, চরিত্রটির প্রেরণা এসেছে ইন্দিরা গান্ধী থেকে। এই ছবির জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং তার স্বামী চরিত্রে অভিনয় করা সঞ্জীব কুমার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার জিতেছিলেন। হিন্দি চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর দাদাসাহেব সম্মাননা প্রদান করে ভারত সরকার। চলচ্চিত্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এ সম্মাননা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। ২০০৫ সালে দাদাসাহেব সম্মাননা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। সম্মাননা নিতে কলকাতা থেকে দিল্লি যেতে চাননি বলেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সূচিত্রা সেন।
১৯৭৮ সালে সুদীর্ঘ ২৫ বছর অভিনয়ের পর চলচ্চিত্র থেকে অবসরগ্রহণ করেন সূচিত্রা সেন। এরপর তিনি রামকৃষ্ণ মিশনের সেবায় ব্রতী হন।
২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি ভারতীয় সময় সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে কলকাতার বেল ভিউ হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮২ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন সুচিত্রা সেন । মৃত্যুর তিন সপ্তাহ আগে ফুসফুসে সংক্রমণের জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার শেষকৃত্যে গান স্যালুট দেবার কথা ঘোষণা করেন। ভারতের তখনকার রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ এবং ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সুচিত্রা সেনের মৃত্যুতে শোকবার্তা পাঠান।
তার মেয়ে মুনমুন সেন এবং নাতনী রিয়া সেন ও রাইমা সেনও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category