মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২০




আজ ইরাকের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি সাদ্দাম হোসেনের জন্মদিন 

মো. নাছির উদ্দীন : সাদ্দাম হোসেন আবদুল মাজিদ আল তিকরিতি। যিনি সাদ্দাম হোসেন নামেই অধিক পরিচিত। আজ ইরাকের প্রয়াত এই জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতির জন্মদিন। ১৯৩৭ সালের আজকের এই দিনে ইরাকি শহর তিকরিত থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আল-আওজা শহরের আল-বেগাত নামে একটি মেষপালক গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন।
সাদ্দাম হোসেন ১৯৭৯ সালের ১৬ জুলাই থেকে ২০০৩ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ইরাকের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। প্রথমে জেনারেল আহমেদ হাসান আল বকরের উপ-রাষ্ট্রপতি ছিলেন তিনি। সেই সময় সাদ্দাম শক্তহাতে সরকার ও সামরিক বাহিনীর মধ্যকার বিরোধের অবসান ঘটান। এই উদ্দেশ্যে তিনি নিরাপত্তা বাহিনী গঠন করেন। ইরাকের রাষ্ট্রপতি ও বাথ পার্টির প্রধান হিসেবে সাদ্দাম হোসেন আরব জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ধর্ম নিরপেক্ষ ও আধুনিক ইরাক গড়ে তুলতে প্রয়াস নেন। সাদ্দাম এক দলীয় শাসন কায়েম করেন। এসময়ই সাদ্দাম ইরানের সাথে ১৯৮০-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ৯ বছরের যুদ্ধে জড়িয়ে পরেন।
ইরাক-ইরান যুদ্ধের পরে ১৯৯১ সালে সাদ্দাম হোসেন উপসাগরীয় যুদ্ধে জড়িয়ে পরেন। তারপর সাদ্দাম হোসেন ইরাকের স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধের সকল পক্ষকে নির্মুল করার উদ্যোগ নেন। সুন্নী শাসক সাদ্দাম হোসেনের বিপক্ষে ছিল উপজাতীয় ও ধর্মীয় গোত্র গুলো যারা স্বাধীনতা দাবি করছিল। যেমন, ইরাকি শিয়া মুসলমান, কুর্দি, ইরাকি তুর্কি জনগন। ২০০৩ সালে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে কতিপয় আন্তর্জাতিক রাষ্ট্র ইরাক আক্রমণ করে। তারা এই যুক্তি দেখিয়ে আক্রমণ করে যে, সাদ্দাম ব্যাপক ধ্বংসাত্বক জীবাণু অস্ত্র তৈরি করছেন (যদিও যুদ্ধ পরবর্তি সময়ে এমন কোন অস্ত্রের হদিস পাওয়া যায়নি)।
২০০৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর  সাদ্দাম হোসেন আমেরিকান সেনাদের কাছে ধরা পড়েন। পরবর্তিতে আমেরিকা ইরাকি সরকারের মাধ্যমে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ এনে সাদ্দাম হোসেনের বিচার করে। ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ইরাকি সময় সকাল ৬.০৬ মিনিটে ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category